মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাসের নাম আসায় এলাকায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রীতম দাসের অতীত কর্মকাণ্ড এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সাংবাদিক আবদুল হাই ইদ্রিছীর একটি ফেসবুক পোস্টে প্রীতম দাসের সম্ভাব্য প্রার্থিতার খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, বিতর্কিত কাউকে প্রার্থী করা হলে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২২ সালে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর পোস্ট করার অভিযোগে শ্রীমঙ্গলে তৌহিদী জনতার ব্যানারে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। ওই ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা হওয়ার পর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। এছাড়া ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাদের পুনর্বাসন ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগে গত ২০ জুন ২০২৫ তারিখে মৌলভীবাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা তাকে 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহমদ হুসাইন ও মো. মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নাগরিকরা দাবি করেছেন, বিতর্কিত অতীত ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে জোটের প্রার্থী করা হলে তা হবে ভুল সিদ্ধান্ত। এছাড়া এলাকায় প্রীতম দাসের কোনো গণসংযোগ বা সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় ভোটারদের কাছে তার পরিচিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১০ দলীয় জোট যদি প্রীতম দাসের মতো বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেয়, তবে তা নির্বাচনী সমীকরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা প্রীতম দাসের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।