যশোরের শার্শা উপজেলায় গত ১০ দিন ধরে চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাড়কাঁপানো শীতে চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে, যা বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করেছে।
যশোর বিমানবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটি আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবারও জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, যা ৭ দশমিক ৮ থেকে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় এবং ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার লক্ষণপুর ও পুটখালী গ্রামের কৃষকরা জানান, তীব্র শীতের কারণে চারা অঙ্কুরোদগম হচ্ছে না। চারা রক্ষায় তারা বীজতলায় ছাই ছিটানো, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত সেচ দেওয়ার মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বাগআঁচড়া গ্রামের চাষি শাহিনুর রহমান বলেন, "জমি প্রস্তুত থাকলেও শীতের কারণে চারা রোপণের উপযোগী হচ্ছে না। বাইরে থেকে চড়া দামে চারা কিনতে হলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।"
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহ বলেন, "তীব্র শীতে কিছু এলাকার চারা হলুদাভ হলেও তা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।"
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন পরামর্শ দিয়ে বলেন, "শৈত্যপ্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং রাতে জমিতে ৩-৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রেখে সকালে তা পরিবর্তন করে নতুন পানি দিলে চারা রক্ষা করা সম্ভব।"