খুলনা

শার্শা ও বেনাপোলে জেঁকে বসেছে শীত, চরম ভোগান্তিতে শ্রমজীবী মানুষ

টানা কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল সীমান্ত অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড স্পর্শ করার পর পারদ সামান্য বাড়লেও ঘন কুয়াশা ও উত্তুরে বাতাসে প্রান্তিক ও ছিন্নমূল মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।

 

যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল রবিবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জেলাটিতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৭ দশমিক ৮ ও ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। আবহাওয়া বিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশার দাপটে সকালে সূর্যের দেখা মিললেও তা হাড়কাঁপানো শীত কমাতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকেরা। বেনাপোল বাজারে প্রতিদিন শ্রমজীবীদের যে ভিড় দেখা যায়, তীব্র শীতের কারণে তা অনেকটাই কমে এসেছে। বাগআঁচড়া এলাকার ইজিবাইক চালক তবিবুর রহমান বলেন, "সকাল আর রাতে বাতাস শরীর অবশ করে দেয়। যাত্রীও কম, কিন্তু কাজ না করলে খাবার জুটবে না।" শার্শা এলাকার শ্রমিক ইজ্জত আলী জানান, গত চার দিন কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।

 

তীব্র শীত থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন নিম্নআয়ের মানুষ। অন্যদিকে, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন অফিসের বারান্দায় রাত কাটানো ছিন্নমূল মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সন্ধ্যা নামার আগেই রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে এবং যানবাহনের স্বল্পতায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

 

 



সম্পর্কিত খবর