মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হরিণছড়া চা বাগানে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে বিষক্রিয়ায় ৪ তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে আহত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ০৯ জুলাই ২০২৫ ইং, রাতে ফিনলে কোম্পানির আওতাধীন হরিণছড়া চা বাগানে এই ঘটনা ঘটে।
আহতদের রাতে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ৪ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা হলেন- আপন দুই ভাই রানা নায়ক (১৭), শ্রাবণ (স্বপন) নায়েক (১৯), কৃষ্ণ রবিদাস (২০) ও নিপেন ফুলমালি (২৭)। তাঁরা সবাই হরিণছড়া চা বাগানের বাসিন্দা ও চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান। এ ঘটনায় গুরুতর আহত রবি বুনার্জী (২০) নামের একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার হরিণছড়া চা বাগানে প্রথম ব্যক্তি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন তুলতে নিচে নামেন। নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিষাক্ত গ্যাসে অচেতন হয়ে তিনি নিচে পড়ে যান এবং আর উঠতে পারেননি। তারপর তার বড় ভাই ভেবেছিলেন নিচে নেমে উঠতে পারছে না, এই ভেবে বড় ভাইও নামেন, তিনিও আর উঠতে পারেন নি। তারপর একে একে আরও ২জন উদ্ধার করতে গিয়ে ওই সেপটিক ট্যাংকে নামেন। কিন্তু কেউই বুঝতে পারেননি ভেতরে কী ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ধাপে ধাপে সবাই অচেতন হয়ে পড়েন এবং মৃত্যু হয় চারজনেরই।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী পাল তমাল বলেন, বুধবার রাতে চারজনকে হাসপাতালে আনা হলে দেখা যায় তারা সবাই মৃত। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।