রংপুর

অভাবে থমকে আছে জলঢাকার ক্ষুদে বিজ্ঞানীর মিসাইল ও ড্রোন গবেষণা

নিজের উদ্ভাবিত ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ডাক পেলেও আর্থিক সংকটে অনিশ্চয়তায় পড়েছে নীলফামারীর জলঢাকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেব সারথি তীর্থ। ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী এবার ইন্দোনেশিয়ায় রকেট ও মিসাইল গবেষণা প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রিত হলেও প্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে পারছেন না তার পরিবার।

করোনাকালীন অবসরকে কাজে লাগিয়ে তীর্থ ঘরে বসেই রপ্ত করেছে জটিল সব প্রোগ্রামিং। তার তৈরি 'মাল্টি-ফাংশনাল ড্রোন'-এ যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), যা দিয়ে সামরিক নজরদারি ও উদ্ধার অভিযান সম্ভব। ড্রোন প্রযুক্তির পর সে এখন আধুনিক রকেট ও মিসাইল সিস্টেম নিয়ে গবেষণা করছে। তীর্থ জানায়, তার মিসাইল সিস্টেমে লো রাডার সিগনেচার ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম। ইতিপূর্বে মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিযোগিতায় ডাক পেলেও অর্থের অভাবে যেতে পারেনি তীর্থ। এবার ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার সুযোগটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় হতাশ এই কিশোর বিজ্ঞানী।

তীর্থর বাবা তাপস কুমার দাস ও মা সঞ্চীতা সাহা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানের প্রবল মেধা থাকলেও দারিদ্র্য আজ তার বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র নাথ রায় বলেন, “তীর্থর মতো প্রতিভা বিরল। কিন্তু উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ছাড়া এই মেধাকে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব।”

ভবিষ্যতে সাবমেরিন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখা এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীর গবেষণাকে বাঁচাতে এখন সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন।



সম্পর্কিত খবর