রংপুর

আওয়ামীপন্থী আইনজীবীর বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ে শ্বশুর-শাশুড়ির মানববন্ধন

বৃদ্ধ, অসহায়, অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়ি ও ওয়ারিশদের স্থাবর সম্পত্তি জবরদখল, শারীরিক নির্যাতন, হয়রানি এবং ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে আইনজীবী হাসান সারওয়ার হেনরীর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের সামনে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী খায়রুল আলম, তাঁর স্ত্রী বেগম মমতাজ জাহান, মেয়ে নাঈমা ইয়াসমিন, ডা. নাফিয়া ইয়াছমিন এবং তাঁর পরিবারের নিকটাত্মীয় এ এস এম মোস্তফা সারওয়ার বাবু। মানববন্ধনে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে খায়রুল আলম ও তাঁর দুই মেয়ে বলেন, "আইনজীবী হাসান সারওয়ার হেনরী ১৯৯৮ সালে আমাদের মেয়ে নাসিমা ইয়াসমিন সুমিকে সম্পত্তির লোভে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে গোপনে বিয়ে করেন। বিষয়টির কারণে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমরা তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিইনি। কিন্তু পরবর্তীতে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আমরা স্বাভাবিক সম্পর্ক মেনে নিই। বিগত আওয়ামী শাসন আমলে হাসান সারওয়ার হেনরী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার স্থাবর সম্পত্তির প্রায় প্রতিটি খতিয়ানে ভুয়া ওয়ারিশ সাজিয়ে দেওয়ানি আদালতে বিভিন্ন হয়রানিমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেন। বিগত ১৫ বছর ধরে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে প্রায় প্রতি মাসে মামলার অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।"

বেগম মমতাজ জাহান বলেন, "গত ২ জুলাই চিকিৎসা ও মৌলিক প্রয়োজনে আমার সম্পত্তি বিক্রির বায়না দলিল করার দিন নির্ধারিত হলে মুঠোফোনে হাসান সারওয়ার হেনরী আমাকে হয়রানিমূলক মামলা ও শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৭ সালের ৩০ জানুয়ারিতে ক্রয়কৃত আমার ১৭৫২৫ নম্বর দলিলের ভোগদখলীয় সম্পত্তির ওপর গত ৭ জুলাই ভুয়া ওয়ারিশ বানিয়ে পঞ্চগড় সদর সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা করেন (মামলা নং ৯১১/২৬)। পরবর্তীতে গত ১২ জুলাই বিবাদীকে না জানিয়ে আদালত থেকে বেআইনিভাবে অস্থায়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করান।"

মোস্তফা সারোয়ার বলেন, "হাসান সারওয়ার হেনরী বাদীপক্ষের শফিয়ার রহমান সবুরকে দিয়ে গত ৯ জুলাই পঞ্চগড় মৌজার জেএল নং-২২ এর বর্তমান আরএস খতিয়ান নং ৩০৬১ এর ৫৮৭৬ নম্বর দাগের ওপর দাখিলা না দেওয়ার জন্য পঞ্চগড় সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন। সে কারণে ৩০৬১ নম্বর খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করা যাচ্ছে না। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেআইনিভাবে স্থানীয় ভূমি অফিসকে ভূমি উন্নয়ন কর নিতে নিষেধ করেছেন। পরবর্তীতে খায়রুল আলম গত ১৩ জুলাই রংপুরের কোতোয়ালি থানায় এবং ১৫ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানায় দুটি জিডি করেন। এছাড়া ১৪ জুলাই পঞ্চগড় বার অ্যাসোসিয়েশনের বরাবরে হাসান সারওয়ার হেনরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। এর মধ্যে গত ৯ আগস্ট তিনি আমাকে এবং আমার জামাতা ইমরান শাহকে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে ডেকে এনে শারীরিক নির্যাতন করেন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।"

 


সম্পর্কিত খবর