ঢাকা

আলোচিত খুন-ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন, ৯ দিনে পুলিশের জালে মূল ৭ সদস্য

নরসিংদীর মাধবদী থানার আলোচিত খুনের পর ডাকাতির ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র ৯ দিনের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের মূল সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ২০২৬ ভোররাতে মাধবদী থানাধীন নুরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে সৌদিফেরত প্রবাসী মিলনের বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত হানা দেয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় মিলনের বড় ভাই মো. শাহজাহান (৫৬) নিহত হন এবং তাঁর চাচা মো. সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে ডাকাতরা স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।

 

এ ঘটনায় ১৯ জুলাই মাধবদী থানায় একটি মামলা (নম্বর-২৩) দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ্-আল-ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মাধবদী থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করেন।

 

গ্রেপ্তার হওয়া সাতজন হলেন— জুবায়ের হোসেন (২০), আশিক আহমেদ (২৩), মোজাহিদ রহমান অপু (২২), মো. সুজন মিয়া (২৫), মো. ফারুক মিয়া (৩০), রোমান (২৮) এবং মো. হৃদয় মিয়া (২২)।

 

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে কয়েকজন খড়িয়া এলাকার পূর্ববর্তী একটি ডাকাতি ও দিগন্ত হত্যা মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি।

 

অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির নগদ ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



সম্পর্কিত খবর