আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইউক্রেন

রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা নিয়ে জেদ্দায় বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও: বিবিসি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার সৌদি আরবের জেদ্দায় যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সংলাপ শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এই সম্মতির কথা জানিয়েছে কিয়েভ। বৈঠকের পর ইউক্রেনকে আবারও সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি, রয়টার্স

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সাথে ছিলেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালৎস। 

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সমুদ্র ও আকাশ পথে আংশিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। এর বাইরে গিয়ে আমাদের প্রস্তাবটি হলো গোলাগুলি বন্ধ করা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চান। এই যুদ্ধে আজ মানুষ মারা যাবে, গতকালও মারা গেছে এবং-দুঃখের বিষয়- যদি যুদ্ধবিরতি না হয়, তাহলে আগামীকালও মারা যাবে।

মার্কো রুবিও আরো বলেন, বল এখন রাশিয়ানদের কোর্টে। এখন মস্কোর কাছে যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া হবে। রাশিয়ানরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে আমি আশা করছি। তবে তারা যদি এতে রাজি না হয় তবে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কী প্রতিবন্ধকতা আছে, তা আমরা বুঝতে পারব। 

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সৌদি আরবে অবস্থান করলেও ওই বৈঠকে অংশ নেননি। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি একটি ‘ইতিবাচক প্রস্তাব’, যা কেবল আকাশ ও সমুদ্রপথে লড়াই নয়, যুদ্ধের সম্মুখ সারির জন্যও প্রযোজ্য।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইউক্রেন রাজি হয়েছে। আশা করি, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিনও রাজি হবেন।’

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ‘এটি ইউক্রেনের শান্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমাদের সকলকে এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি স্থায়ী ও নিরাপদ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে। রাশিয়াকে এখন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

ইউক্রেন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন বলেন, এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ ইউক্রেনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল।

ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেছেন, আসন্ন শান্তি আলোচনায় ইইউ তার অংশীদারদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে পূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

লিথুনিয়ার নেতা গিতানাস নৌসেদা বলেছেন, ইউক্রেন আবারও একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তির ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। রাশিয়াকে এ ক্ষেত্রে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।

তিন বছর আগে ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করেছিল রাশিয়া। সেই থেকে এই যুদ্ধ চলছে। 

বায়ান্ন/এসবি

 

 



সম্পর্কিত খবর