নড়াইলের কালিয়া প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের মারধর ও ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে তদন্ত শেষে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহীউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ সাহিদুর ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক শেখ তকিবুর রহমান। তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহীউদ্দিন বলেন, “মাউশির নির্দেশে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ সাহিদুর ইসলাম কোনো কারণ ছাড়াই সহকর্মী প্রশান্ত বিশ্বাস ও চৈতালী বিশ্বাসকে মারধর করেন। আহত শিক্ষক চৈতালী বিশ্বাস এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক শেখ তকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায় সময় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় দুই ভাই প্রশাসনিক দাপট দেখিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, পাঠদানের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার এবং ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে। এক সময় বিদ্যালয়টিতে ৮০০ শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে তা ৫০০-তে নেমে এসেছে। তবে প্রধান শিক্ষক দীপ্তি রানী বৈরাগী দাবি করেন, আশেপাশে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।