ঢাকা

কাশিমপুর কারাগার থেকে নারী কয়েদির পলায়ন, ৭ কারারক্ষী বরখাস্ত

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— মেট্রন লায়লা আঞ্জুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা আক্তার।

 

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে একজন বন্দি পালাতে সক্ষম হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

কারাগার সূত্রে জানা যায়, পলাতক বন্দি রিম্পা (২১) মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৯ জুলাই তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে আসার মাত্র আট দিনের মাথায় তিনি পালিয়ে যান।

 

সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। ওই সময় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে রিম্পা কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে কারাগাজুড়ে তল্লাশি চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় তার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

 

কারা কর্মকর্তারা জানান, বিধি অনুযায়ী বিকেল ৫টার মধ্যে বন্দিদের লকআপে নেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন না হওয়ায় নিরাপত্তায় ফাঁক তৈরি হয়। সেই সুযোগেই রিম্পা কৌশলে কারাগার থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।

 

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছেন। তদন্তকারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছেন। কোনাবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে রিম্পা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

 

এদিকে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন জানান, কারাগারের জেলার শিরীন আক্তার বাদী হয়ে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পলায়নের পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সম্পর্কিত খবর