মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর তীব্র ভাঙনে ১ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে ভাঙনঝুঁকিতে থাকা কয়েক হাজার মানুষ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফতেপুর ইউনিয়নের শাহাপুর, বেড়কুড়ি, মোল্লাবাড়ি, জাহিদপুর, আবদুল্লাহপুর, চরকারপার ও কাশিমপুরসহ প্রায় ১০টি গ্রাম নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। ভিটেমাটি হারানো অনেক পরিবার বর্তমানে অন্যের জমিতে অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগী মিরাশ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নদী আমাদের সব কেড়ে নিচ্ছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তা আমাদের খোঁজ নিতে আসেননি।”
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এমদাদুল হক টিটু অভিযোগ করেন, “সমস্যাটি সমাধান করতে আমি বিগত এবং বর্তমান উপজেলা প্রশাসনকে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।”
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, “ফতেপুর ও মনমুখ ইউনিয়ন মিলিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আমি নিজে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রকল্পের খসড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বা ফান্ড না আসায় এখনই কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।”
আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই জনপদ পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।