ঢাকা

গণভোটে প্রচারশূন্য টাঙ্গাইল: জেলা তথ্য অফিসের নির্লিপ্ততায় জনমনে অস্পষ্টতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক ‘গণভোট’ নিয়ে টাঙ্গাইলে জেলা তথ্য অফিসের প্রচার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ভোটগ্রহণের সময় ঘনিয়ে এলেও জেলা সদর কিংবা তৃণমূল পর্যায়ে মাইকিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে বা উঠান বৈঠকের মতো নূ্যনতম সচেতনতামূলক কর্মসূচি চোখে পড়ছে না। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার ও পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অস্পষ্টতা ও অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

সরেজমিনে টাঙ্গাইল সদরসহ ১২টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গণভোটের নিয়মাবলী বা গুরুত্ব নিয়ে জেলা তথ্য অফিসের কোনো ব্যানার বা পোস্টার নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটার সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে অবগত হলেও গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছেন। সদর উপজেলার ধরেরবাড়ি, কালিহাতীর দুর্গাপুর, নাগরপুরের ছলিমাবাদসহ বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি কোনো দপ্তর থেকে তাদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।

 

সচেতন মহলের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ প্রতীকের প্রচারণা চালালেও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অন্যতম ধাপ এই গণভোট নিয়ে সরকারি প্রচারণার অভাব প্রকট। তথ্য অফিসের এই নির্লিপ্ততা ভোটার উপস্থিতির হারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

 

জেলা তথ্য অফিসের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রচারণার চেয়ে তারা দাপ্তরিক কাজেই বেশি ব্যস্ত। সদর উপজেলায় মাত্র দুই দিন মাইকিং ছাড়া মাঠপর্যায়ে তাদের আর কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।

 

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত দাবি করেন, তারা নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে দুই একটি স্থানে মাইকিং ব্যতীত আর কোথায় কী কার্যক্রম হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

 

অন্যদিকে, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ৩৬০টি বড় ব্যানার ও এক লাখ ৮০ হাজার লিফলেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ব্যানারগুলো টানানো হয়েছে এবং লিফলেটগুলো দ্রুত জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করা হবে। তবে মাঠপর্যায়ে তথ্য অফিসের সক্রিয়তা না বাড়লে সাধারণ ভোটারদের সচেতন করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



সম্পর্কিত খবর