ঢাকা

গাজীপুরে হোটেল অভিযানে ‘আয়নাবাজি’ অভিযোগ, প্রকৃত মালিক আড়ালে?

গাজীপুরে একটি আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযানে ৪৫ জন নারী-পুরুষ আটক হওয়ার পর ঘটনাটিকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অভিযানের আড়ালে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে ‘আয়নাবাজি’র আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) গভীর রাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরানি বাজার এলাকার ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে নারী-পুরুষদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

 

তবে অভিযানের পরপরই সামনে আসে ভিন্ন অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটি অবৈধ দেহব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। হোটেলের মালিক মোতালেব ও ম্যানেজার শামীম দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণীদের এনে অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

 

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, অভিযানের সময় কৌশলে প্রকৃত মালিককে ‘খদ্দের’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এবং একজন কর্মচারীকে মালিক হিসেবে দেখানো হয়। এতে করে প্রকৃত মালিক আইনের আওতার বাইরে থেকে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে তাদের ধারনা। এছাড়া মামলার চার্জশিট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মালিককে তৃতীয় নম্বর আসামি দেখিয়ে মামলার গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অভিযানে আটক মনির গাজীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ আনা হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন “বড় রাঘব বোয়ালরা কি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকেই যাচ্ছে?”

 

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটিতে অবৈধ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ ছিল না। মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম আবার চালু হয়ে যায়। এতে অভিযানের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এমনকি নিয়মিত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ‘নামমাত্র’ অভিযান পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে, যা অপরাধ দমনের পরিবর্তে বরং তা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

 

এ ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২- এর ৭, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে জিএমপির কাশিমপুর থানার এসআই মো. আরিফ হোসেন বলেন, এ রকম কিছুই করা হয়নি। এটা সত্য নয় মিথ্যা। কে মালিক আর কে মালিক নয় এটা তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি দেখবেন বলেই ফোন কেটে দেন। তবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

এবিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তারিকুল ইসলাম বলেন, পরবর্তীতে তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে। মালিককে খদ্দের বানানোর বিষয়টি অভিযোগকারী পুলিশ সদস্যের কাছেই জিজ্ঞেস করেন তিনিই ভালো বলতে পারবেন। 

 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, নাম যেখানেই দেয়া হোক না কেন, এটা মামলার প্রাথমিক পর্যায়, তদন্তের পর পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে কে অপরাধী সেটা আসবে। এ ক্ষেত্রে নতুন কেউ যোগ হতে পারে, যাদের ধরা হয়েছে তাদের কেউ ছাড়া পড়তে পারে। আর যে নিরপরাধ সে ছাড়া পাবে।



সম্পর্কিত খবর