নীলফামারীর জলঢাকায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে চুরির ঘটনা। গত ২৫ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮টি গরু ও ৫টি মোটরসাইকেল চুরির খবর পাওয়া গেছে। সবশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে খোদ থানা সংলগ্ন জনবহুল এলাকা থেকে এক কলেজ শিক্ষকের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে জলঢাকা জিরো পয়েন্ট মোড় এলাকায় একটি হোটেলের সামনে মোটরসাইকেল রেখে নাস্তা করতে যান জলঢাকা সরকারি কলেজের প্রভাষক সফিকুল গনি। মাত্র দশ মিনিটের ব্যবধানে ফিরে এসে তিনি দেখেন তার ব্যবহৃত পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেলটি নেই। ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, "থানা থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে দিনে-দুপুরে যদি এভাবে মোটরসাইকেল চুরি হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?"
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে পৌরসভার বগুলাগাড়ি এলাকায় মিনা রানীর একটি গরু এবং ২৪ ডিসেম্বর শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে বিশাল চন্দ্র রায়ের একটি মোটরসাইকেল ঘরের বেড়া কেটে চুরি করা হয়। এছাড়া ১৫ ডিসেম্বর রাতে পূর্ব বালাগ্রামের শিক্ষক শামীম নেওয়াজের গোয়াল ঘর থেকে একযোগে পাঁচটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। গত ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বরও পৃথক স্থান থেকে আরও তিনটি মোটরসাইকেল এবং দুটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একের পর এক চুরির ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দারা। বিশেষ করে গোয়াল ঘরের বেড়া কেটে গরু চুরির ঘটনায় প্রান্তিক কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, "আমরা চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। এ পর্যন্ত চুরির সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"