খুলনা

ঝিনাইদহ-৪: রাশেদ বনাম ফিরোজ, মনোনয়ন দ্বন্দ্বে বিড়ম্বনায় তৃণমূল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন এবং দলের শীর্ষ নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলের একটি বড় অংশ এখন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

 

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে শেষ পর্যন্ত ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন— রাশেদ খান (বিএনপি), সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (স্বতন্ত্র/বিএনপি বিদ্রোহী), মাওলানা আবু তালিব (জামায়াতে ইসলামী), আব্দুল জলিল (ইসলামী আন্দোলন), এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু (জাতীয় পার্টি) ও খনিয়া খানম (গণফোরাম)। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মুর্শিদাজামান পপি মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

 

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকা সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে বাদ দিয়ে ‘বহিরাগত’ রাশেদ খানকে মনোনয়ন দেওয়া তারা মেনে নিতে পারছেন না। সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, "আমি একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলাম। এলাকার সিংহভাগ নেতাকর্মী আমার সাথে আছেন। রাশেদ খান এই আসনের ভোটার নন, অনেকেই তাকে চেনেন না। সাধারণ ভোটারদের দাবির প্রেক্ষিতেই আমি মাঠে আছি এবং আশা করছি দল শেষ মুহূর্তে প্রতীক পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।"

 

অন্যদিকে, দলীয় মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, "ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে এই আসনে পাঠিয়েছেন। যারা বিএনপির রাজনীতি করেন, তারা অবশ্যই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মনে সাময়িক কষ্ট থাকলেও দলের স্বার্থে দ্রুতই সবাই এক হয়ে কাজ করবেন বলে আমি আশাবাদী।"

 

এদিকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুই হেভিওয়েট নেতার মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ভোটের মাঠে কার পক্ষে কাজ করবেন— তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরা। এই আসনটিতে ধানের শীষের ভোটের সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



সম্পর্কিত খবর