ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলাসহ শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তীব্র শীতে বোরো চারা হলুদ হয়ে যাওয়া এবং আলু ও টমেটোতে 'নাবী ধসা' (লেট ব্লাইট) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার কাইতলা উত্তর, নাটঘর, শিবপুর ও বিদ্যাকুট ইউনিয়নের হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা পুরোদমে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে ইব্রাহিমপুর ও জিনদপুরসহ উঁচু এলাকার কৃষকরা বীজতলা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার চারা মরে যাওয়ার পাশাপাশি সরিষার পরাগায়ন (পলিনেশন) ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীনগরে ৯০৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, যা দিয়ে ১৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২৪৫ হেক্টর জমিতে আলু, ২১০ হেক্টর জমিতে টমেটো এবং ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ চলছে।
বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, "শৈত্যপ্রবাহে রবি শস্য ও বোরো বীজতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা কৃষকদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বীজতলায় রাতে পানি ধরে রাখা এবং সকালে তা বের করে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া আলু ও টমেটোর নাবী ধসা রোগ প্রতিরোধে অনুমোদিত মাত্রায় ম্যানকোজেব গোত্রের ছত্রাকনাশক ৫ থেকে ৭ দিন পরপর স্প্রে করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।"
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, শৈত্যপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছেন।