পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের ঘটনায় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছে ছাত্র-জনতা। আজ সোমবার বিকেল ৬টার মধ্যে দাবি পূরণের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গত রাত ১২টায় তারা বিক্ষোভ তুলে নেয়।
এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের শেরেবাংলা পার্ক এলাকায় ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান জাতীয় নাগরিক কমিটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান এবং পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।
আহতদের দেখার পর সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, "শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কার নির্দেশনায় হামলা চালিয়েছে তা দ্রুত উদ্ঘাটন করতে হবে। একটি শৃঙ্খল বাহিনীর এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের বের করা না হলে ছাত্র-জনতা চুপ থাকবে না।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার রাতেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, "সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে জনদুর্ভোগ কমাতে সড়ক থেকে সরানোর সময় আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে শিক্ষার্থীরা লাঠিচার্জের অভিযোগ করেছেন। আমরা সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।"
বৈঠকে ২৯ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেন। উল্লেখ্য, ওসমান হাদী হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে বিকেলে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছিল ‘বাংলাদেশ পন্থী শিক্ষার্থী’ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।