ঢাকা

পা দিয়ে লেখেন, গড়েছেন ১৪৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ! দুঃখু মিয়ার গল্প পৌঁছাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে

জন্ম থেকেই নেই দুই হাত। কিন্তু সেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি তাঁর স্বপ্ন ও পথচলা। পা দিয়ে লেখা শিখে নিজের সঞ্চয় এবং পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিদ্যালয়; যেখানে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী। বলছি নরসিংদীর পাঁচদোনার আলতাফ হোসেন—সবার পরিচিত 'দুঃখু মিয়া'র কথা। তাঁর এই অসাধারণ জীবনসংগ্রাম ও উদ্যোগ এবার পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দুঃখু মিয়াসহ সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এ সময় দুঃখু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়। তাঁর কথা শুনে বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা যায়, আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া ১৯৬২ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাত নেই। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে পা দিয়ে লেখা শেখেন তিনি। এরপর ২০০৭ সালে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন 'প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল'।

নিজের সঞ্চিত অর্থ এবং পৈতৃক জমি বিক্রির টাকা দিয়ে গড়ে তোলেন বিদ্যালয়টি। বর্তমানে সেখানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানে দায়িত্ব পালন করছেন ১০ জন শিক্ষক। শুধু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই নয়, পা দিয়েই লেখালেখি এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন দুঃখু মিয়া।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুঃখু মিয়া। তাঁর মতো মানুষের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনারা সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের এমন উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করবে।

শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে দুঃখু মিয়ার এই শিক্ষা উদ্যোগ শুধু নরসিংদী নয়, পুরো দেশের জন্যই এক অনন্য অনুপ্রেরণার গল্প। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি উপকৃত হবে সেখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরাও।



সম্পর্কিত খবর