সিলেট

পুকুরের জলে হারিয়ে গেল দুই বছরের শিশু-বড়লেখায় শোকের ছায়া

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে মরিয়ম আক্তার (২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের পূর্ব শংকরপুর গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত মরিয়ম ওই গ্রামের দুবাইপ্রবাসী আব্দুল গফুরের আদরের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রবিবার দুপুরেও বাড়ির পাশেই সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠে ছোট্ট মরিয়ম। পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকায় শিশুদের খেলাধুলা চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু খেলার একপর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরের দিকে চলে যায় সে। অসতর্ক মুহূর্তে হঠাৎ পা পিছলে পানিতে পড়ে যায় মরিয়ম।

তার সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা বিষয়টি প্রথমে বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে পুকুরের পাশে তার উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত পরিবারের সদস্যদের খবর দেয় তারা।

খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে পুকুরে নেমে মরিয়মকে খুঁজতে থাকেন। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায়, পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছোট্ট শিশুটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরাও শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন। অনেকেই জানান, কিছুক্ষণ আগেও হাসিখুশি খেলায় মেতে থাকা শিশুটির এমন পরিণতি কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলে বসতবাড়ির আশপাশে খোলা পুকুর থাকায় শিশুদের জন্য ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। সামান্য অসতর্কতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। তারা শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে শিশুদের একা খেলতে না দেওয়া, বাড়ির আশপাশের পুকুর বা জলাশয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, গ্রামাঞ্চলে প্রতি বছরই এ ধরনের পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাও আবারও সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এলো।



সম্পর্কিত খবর