ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে পৈতৃক বসতভিটা ও কষ্টার্জিত সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার পরিবারের ওপর দফায় দফায় নির্যাতন, হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালত ও থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আল আমিন নামের এক প্রবাসী দীর্ঘদিন বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজ গ্রামে একটি তিনতলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ওই বাড়ী ও সম্পত্তির প্রতি তার ছোট ভাই মোঃ মামুন মোল্লার লোভ জন্মায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আল আমিন পারিবারিক সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে ছোট ভাইকে সহযোগিতা হিসেবে একটি ম্যাজিক গাড়ীও কিনে দেন। কিন্তু এরপরও সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে মামুন মোল্লা ও তার সহযোগীরা নানা সময় ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ নভেম্বর সকালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীদের বসতঘরে প্রবেশ করে টেলিভিশন, ফ্রিজ, আসবাবপত্রসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় বাধা দিতে গেলে আল আমিনের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে গত ১৪ নভেম্বর আল আমিন ঢাকা থেকে বাড়ীতে ফিরলে অভিযুক্তরা পুনরায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় বলে মামলায় বলা হয়েছে। এসময় মামুন মোল্লা লোহার রড দিয়ে বড় ভাই আল আমিনের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। স্ত্রী সেলিনা বেগম এগিয়ে এসে স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।
এ সময় সেলিনা বেগমের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন এবং নগদ ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— মোঃ মামুন মোল্লা (২৪), মুক্তা বেগম (৪২), রেশমা বেগম (২৩), লিমা আক্তার (৩৫)সহ আরও ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। বর্তমানে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এবং সংশ্লিষ্ট থানায় বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
আহত সেলিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বামী হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এই বাড়ী করেছেন। এখন আমাদের নিজেদের বাড়ীতেই থাকতে দিচ্ছে না। আমাদের মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিতে চাইছে। মামলা তুলে না নিলে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি ও আমার সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা চাই।”
বর্তমানে আহতরা চিকিৎসা শেষে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আল আমিন আরও জানায়, বিভিন্ন হয়রানি মূলক মামলা দিয়ে রাখা হয়। যেনো আমি বাড়ীতে ঢুকতে না পারি। অন্য জেলা থেকে বিভিন্ন বাহিনী ভাড়া করে নিয়ে এসে, আমাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।