চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে সাগরের লবণাক্ত বালু ব্যবহারের অভিযোগ এবং সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে দুটি ড্রেজার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিডিএল-এর ম্যানেজার ফখরুল ইসলামসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে। এর আগেও তাদের লবণাক্ত বালু ব্যবহার না করতে এবং সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন না করতে সতর্ক করা হয়েছিল।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাগর উপকূলীয় খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল বেড়িবাঁধ এলাকায় সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ ওমর সানী আকন-এর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন জানতে পারে যে খানখানাবাদের কদমরসুল বেড়িবাঁধ এলাকায় দুটি ড্রেজার ব্যবহার করে সাগর থেকে অবৈধভাবে লবণাক্ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের টিম ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতদের হাতেনাতে আটক করে। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিডিএল-এর ম্যানেজার ফখরুল ইসলামসহ আটজনকে আটক করা হয় এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকূলীয় অঞ্চল খানখানাবাদ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ নির্মাণে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিডিএলকে সাগরের লবণাক্ত পানি দিয়ে বালু উত্তোলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধ করার পর কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় একটি রাজনৈতিক মহল অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে, হুমকি-ধমকি ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে তালুকদার ট্রেডিং নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী শহীদুল ইসলাম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাবু, ছাত্রদল নেতা কায়দুল ওয়াদুদ জিহান, যুবদল নেতা শাহেদ ও আশরাফ-এর নেতৃত্বে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সাগরের লবণাক্ত বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে এলাকায় কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বাঁশখালী থানার কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।