বিরোধী দল দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার কক্সবাজারে এক জনসভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল বলেছে এই বাজেট জনবিরোধী, এই বাজেট তারা মানে না। বিরোধী দল দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। জনগনকে বিভ্রান্ত করতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এই বাজেট জনগণের জন্য স্বস্তি তৈরি করেছে, কিন্তু এই বাজেট বিরোধী দল মানে না। তারা জনগণের বন্ধু না।’ এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী ইউএস বাংলার একটি বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তীব্র বৃষ্টির মধ্যে প্লেন থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা মেয়েদের জন্য শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দিয়েছি। পাশাপাশি অসচ্ছল নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, সরকারের সকল উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর আগে সকালে ঢাকা থেকে বেসরকারি বিমান ইউএস-বাংলা বিমানযোগে দুই যুগ পর কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর সরকারপ্রধান তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে পাতলী খাল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড হাতে নিয়ে প্রিয় নেতাকে বরণ করে শুভেচ্ছা জানান। গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। পিএমখালীর এই পাতলী খালটি তারই অন্যতম সাক্ষী, ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে জিয়াউর রহমান এই খাল খননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।
কক্সবাজারের এই স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি বৃহৎ জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যার প্রথম দফায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শুধু খাল খননই নয়, পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।