ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক ছেড়েছেন আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা। তবে সড়ক ছেড়ে যাওয়ার সময় শাহ আলী ও পল্লবী এলাকার চারটি স্থানে পোশাক কারখানা ও মার্কেটে ভাঙচুর চালিয়েছেন তারা।
এতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও প্রশিকা মোড় অবরোধ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
এতে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ধাপে ধাপে সড়ক থেকে সরে যান শ্রমিকরা। তবে যাওয়ার পথে শাহ আলী এলাকার হিমালয় গার্মেন্টস, বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্স ও মল্লিক টাওয়ার এবং পল্লবী থানার কালশী রোডের স্ট্যান্ডার্ড ২২ তলা গার্মেন্টসে ভাঙচুর চালানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর থেকে শ্রমিকরা চলে যাওয়ার সময় মিরপুর-১ নম্বর হয়ে যাওয়ার পথে তৌফিক নামে এক শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। পরে মিরপুর-১০ থেকে আরও শ্রমিক এসে ওই গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালান।
এদিকে, পোশাকশ্রমিকদের আরেকটি দল সড়ক ছেড়ে যাওয়ার সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত মল্লিক টাওয়ারে ভাঙচুর চালায়। এছাড়া আন্দোলনে যোগ না দেওয়ায় পল্লবী থানার কালশী এলাকার স্ট্যান্ডার্ড ২২ তলা গার্মেন্টসেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকরা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন। তবে যাওয়ার সময় কয়েকটি গার্মেন্টস ও কারখানায় ভাঙচুর করেছেন তারা।
তিনি বলেন, কেন এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন পোশাকশ্রমিকরা।