যশোর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনের অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া নথিপত্রকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরিত্যক্ত ওই ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, তা নিয়ে জনমনে রহস্য দানা বাঁধছে। অনেকে বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করার ‘নাশকতা’ হিসেবেও সন্দেহ করছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে আকস্মিকভাবে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে বেশকিছু বালাম বই, ভলিউম বুক ও টিপবইসহ পুরনো কাগজপত্র পুড়ে যায়।
জেলা রেজিস্ট্রার আবু তালেব জানান, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ভবনটি ২০০০ সালে পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ সব দলিলপত্র নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগুনে কেবল অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রই ভস্মীভূত হয়েছে বলে তার দাবি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি—অফিসের একটি বিশেষ অসাধু চক্র জমি জালিয়াতির প্রমাণ লোপাট করতে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত ‘এক্সট্রা মোহরার’ চক্রটি টাকার বিনিময়ে বালাম বই ঘষামাজা বা দাগ নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে সুবিধা দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় শর্ট সার্কিটের সুযোগ নেই, আবার গেটে তালা থাকায় বহিরাগত প্রবেশের সুযোগও সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে আগুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় যথাযথ আইনি ও তদন্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।”