রাজনীতি

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কাছেই ফিরছে জনআস্থা: আলোচনার কেন্দ্রে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন

জুলাই-আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুশীল নেতৃত্বের মোহভঙ্গ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা এখন প্রকাশ্য আলোচনায় রূপ নিয়েছে। এই পটভূমিতে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি 'নির্ণায়ক মোড়' হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) তাঁর দেশে ফেরার সংবাদটি দেশের গণমাধ্যম থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনৈতিক আড্ডায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি যে ব্যাপক জনসমর্থন ছিল, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে মবোক্রেসি বা জনতা-শাসনের উত্থান এবং জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই শূন্যতা পূরণে মানুষ এখন রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের 'সময়জ্ঞান' তাঁর রাজনীতির একটি বড় চাল। ছয় মাস আগে এলে যে গণজোয়ার হয়তো স্তিমিত থাকত, বর্তমান প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে তাঁর ফেরা সেটিকেই বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো তাঁকে আগামীর নেতৃত্ব হিসেবে নীরবে স্বীকৃতি দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এদিকে বেনাপোলসহ সীমান্ত ও মফস্বল এলাকাগুলোতেও এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—তারেক রহমানের এই আগমণ ক্ষমতার ভারসাম্যে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে। যদিও বর্তমানে তাঁর হাতে প্রশাসনিক কোনো ক্ষমতা নেই, তথাপি রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাঁর প্রভাব দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।

 

সামগ্রিকভাবে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের এই ফেরা কেবল আবেগ নয়, বরং নিখুঁত রাজনৈতিক কৌশলের ফসল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

 


সম্পর্কিত খবর