ঢাকা

শস্যভাণ্ডারে যুক্ত হলো উচ্চফলনশীল ৬ নতুন জাতের ধান

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভিটামিন-ই ও লবণা্ক্ততা সহনশীল প্রযুক্তিসহ দুই হাইব্রিডসহ ছয়টি নতুন ধানের জাত অবমুক্ত করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কৃষি মন্ত্রণালয়ে জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় সারা দেশে চাষাবাদের জন্য এসব উচ্চফলনশীল জাতের অনুমোদন দেওয়া হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্রি উদ্ভাবিত এই জাতগুলোকে শস্যভাণ্ডারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়। নতুন এই তালিকায় রয়েছে দেশের প্রথম ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কালো চালের জাত 'ব্রি ধান১১৫', নাবী জাত 'ব্রি ধান১১৬' এবং লবণাক্ততা ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী 'ব্রি ধান১১৭'। এ ছাড়া হাওরাঞ্চলের জন্য উপযোগী ও ঠাণ্ডা সহনশীল 'ব্রি ধান১১৮' এবং ঢলে পড়া প্রতিরোধী 'ব্রি হাইব্রিড ধান৯' ও 'ব্রি হাইব্রিড ধান১০' অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ব্রি'র মহাপরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান বলেন, “নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান১১৫ বাংলাদেশের প্রথম কালো চালের জাত, যা হেক্টর প্রতি ৭.৪ টন ফলন দিতে সক্ষম। এ ছাড়া আমাদের নতুন হাইব্রিড জাতগুলো প্রতিকূল পরিবেশে ঢলে পড়া প্রতিরোধ করতে পারে এবং হেক্টরে ১০ টনের বেশি ফলন দেয়।”

নতুন এই ছয়টি জাতসহ ব্রি উদ্ভাবিত মোট জাতের সংখ্যা এখন ১২৭টিতে দাঁড়িয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল এসব জাত মাঠ পর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে ধান উৎপাদনে বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের কৃষিতে এই উদ্ভাবন বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



সম্পর্কিত খবর