ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘোষিত টানা সাত দিনের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিশেষ করে রাজধানী ছাড়ার প্রবেশমুখগুলোতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সরেজমিনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, দোলাইপাড়, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, পল্টন, শাহবাগ ও ফার্মগেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে-অনেক জায়গায় গাড়ি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘ সময় পার হলেও যানবাহনের তেমন নড়াচড়া নেই। কোথাও কোথাও কয়েকশ মিটারজুড়ে বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। রমজানে দুপুরের দিকে অফিস ছুটির সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অফিস শেষে অনেকেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন, আবার অনেকে কাজ শেষে পরিবারসহ গ্রামের পথে যাত্রা শুরু করেছেন। এতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন সড়কে নামায় রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ-চট্টগ্রাম রোড, গুলিস্তান-পল্টন-শাহবাগ সড়ক, ফার্মগেট ও আশপাশের এলাকায় যানজট সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এসব এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে তীব্র যানজটের কারণে সাইরেন বাজিয়েও অনেক অ্যাম্বুলেন্সকে জ্যামে আটকে থাকতে দেখা গেছে। রোগী বহনকারী এসব অ্যাম্বুলেন্সকে এগিয়ে নিতে ট্রাফিক পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। বাস, সিএনজি ও রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে বসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে করতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মিরপুরগামী যাত্রী সুফিয়ান বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে গুলিস্তান থেকে বাসে উঠেছি। প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেলেও এখনো শাহবাগ পার হতে পারিনি।
আগামীকাল থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় অনেকেই আজ অফিস শেষে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। তাই রাস্তায় এত চাপ। সায়েদাবাদে কুমিল্লাগামী তিশা পরিবহনের সুপারভাইজার কিসলু সরদার বলেন, দুপুরের পর থেকে যাত্রীর চাপ অনেক বেড়েছে। আগামীকাল থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালীর যাত্রীরা আজই রওনা দিচ্ছেন। এ কারণে যাত্রাবাড়ী ও চট্টগ্রাম রোড এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, পরিবারকে আগেই গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি, তখন যানজট কম ছিল। আজ নিজে রওনা দিয়েছি, কিন্তু কত সময় লাগবে বুঝতে পারছি না। ইতোমধ্যে আধা ঘণ্টা পার হলেও সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী পার হতে পারিনি।
রাজধানীর মৎস্য ভবন এলাকায় অবস্থানরত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে সবারই বাড়তি খরচ থাকে। আমরা গাড়ি চালিয়ে কিছু বেশি আয় করতে পারব, সেই সুযোগও নেই। কারণ এই তীব্র যানজটের কারণে বেশিরভাগ সময় জ্যামে বসেই কাটাতে হয়। রমনা ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক রনি কুমার সাহা বলেন, অফিস ছুটির পর স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় যানবাহনের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। আজ এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ। ফলে যানবাহন ও মানুষের চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে যানজট নিরসন, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সবাই ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালালে তুলনামূলকভাবে যানজট কমে। এ ছাড়া রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, যাত্রীবাহী বাস, রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের যত্রতত্র পার্কিং না করা এবং উল্টো পথে যানবাহন না চালানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নিরাপদে ঈদযাত্রা সম্ভব হবে। ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে আগামী কয়েকদিন রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই সড়কে যানজট কমাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীরা আশা করছেন, সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সবার সচেতনতা থাকলে ঈদযাত্রার এই চাপের মধ্যেও সড়কে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে।