অর্থনীতি ও বাণিজ্য

শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড। এর অংশ হিসেবে আগামী ৯ নভেম্বর বোর্ডের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে তাদের প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো জমা দেবেন। একই সঙ্গে সব গ্রেডের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শিল্প শাখা থেকে আজ বৃহস্পতিবার জারি করা নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথমত, পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা তাঁদের প্রস্তাবিত মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। দ্বিতীয়ত, শিল্প খাতের সব গ্রেডের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি হার নিয়ে আলোচনা হবে।

 

 

এর আগে গত ৪ নভেম্বর বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা পরবর্তী বৈঠকে তাঁদের নিজ নিজ প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা জানান। ফলে দ্বিতীয় সভার মধ্য দিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের আলোচনা আরও আনুষ্ঠানিক ও কার্যকর পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত ১ নভেম্বর তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ তৈরির জন্য ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

 

 

বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই মজুরি কার্যকর করা হয়। এরপর মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় নতুন মজুরি নির্ধারণে শ্রমিকদের প্রত্যাশা এবং শিল্পের সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

মালিক ও শ্রমিকপক্ষের লিখিত প্রস্তাব জমা এবং তা পর্যালোচনার পর নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়নের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেবে বোর্ড।

 



সম্পর্কিত খবর