রাঙামাটির সাজেক সড়কে ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত দুই সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে ১১ ঘণ্টা পর বিকাল ৫টায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় আন্দোলনকারীরা। এরপরই পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্রমণ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সাজেক থানার ওসি মো. তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কের গঙ্গারাম বাজার, রেতকাবা মুখ, দোপাতাছড়া, উজোবাজারসহ সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গাছ ও টায়ার জ্বালিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে অবরোধকারীরা।
এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার শংকায় খাগড়াছড়ি ও সাজেক থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ। এ ছাড়া সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আটকা পড়েন সাড়ে ১২ শ পর্যটক। প্রতিদিন খাগড়াছড়ি ও সাজেক প্রান্ত থেকে সকাল ১০টা ও দুপুর দুইটা দুই দফায় সেনাবাহিনী পাহাড়ায় পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল করে। অবরোধের কারণে আজ সেই সময়সুচিতে পরিবর্তন করে দুইটায় আনা হয়।
কিন্তু পর্যটকবাহী যানবাহন সাজেক প্রান্ত থেকে মাচালং ও খাগড়াছড়ি প্রান্ত থেকে উজোবাজার আসলে আন্দোলনকারীরা আটকে দেন। পরে প্রশাসন থেকে ৪ দফা দাবি মানার আশ্বাসে বিকেল ৫টায় দুই দিনের সময় বেধে দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় আন্দোলনকারীরা। এরপরই স্বাভাবিক হতে শুরু করে সাজেক ভ্রমণ।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো-৪৮ ঘণ্টা সময়ে জেএসএস সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। জেএসএসেরা কাউকে মৃত্যু হুমকি দেবে না।
সেনা প্রশাসন সাধারণ নিরীহ জনগণের ঘর বাড়ি তল্লাসি করা যাবে না। তল্লাশি নামে যে সরঞ্জাম গুলো নেওয়া হয়েছে ওগুলো ফেরত দিতে হবে।
সাজেক থানার ওসি মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধকারীরা দুই দিনের সময় বেধে দিয়ে চার দফা দাবি জানিয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে বিকেল ৫টায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তারা। এখন সাজেক ভ্রমণ স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকের ভুয়োছড়ি, চাইল্যাতলী ও মাচলং ক্যাম্পের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণকে হুমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের ছোঁড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা (৮) নামে একজন শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে।
মূলত জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাস ও উৎপাতের অভিযোগ তুলে-এর প্রতিবাদে গেল ৮ অক্টোবর প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম বেধে দেয় ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি এসোশিয়েসন’। এরপরই আজ সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি।