খুলনা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগাম প্রস্তুতি: কালীগঞ্জে জামায়াতের উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর শহর-গ্রামা

এখনো স্থানীয় সরকারের অধীন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। তারপরও আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখা। ইতিমধ্যে দলটির উপজেলা ও পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়তে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে; যা লিফলেট আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ নির্বাচনী এলাকার গাছপালায় ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও প্রায় এক বছর আগে দলটি তিন শ আসনে তাদের দলীয় এমপি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল। এতে তারা সফলতাও পেয়েছেন বলে মনে করেন অনেকে। এদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, হেফাজতে ইসলাম ছাড়াও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ থেকে এখনো কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু তারপরও দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি আগাম ভোটের প্রার্থিতায় পোস্টার-ব্যানার টানিয়ে দোয়া ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের দলীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, দলটির সকল কর্মকাণ্ডই কেন্দ্রীয় জামায়াতের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মোতাবেক পালন হয়ে থাকে। এরই অংশ স্থানীয় সরকারের আগামী সকল নির্বাচনও। গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরপরই দলটি কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লড়তে তিনটি পদে একক তিনজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। চেয়ারম্যান পদে—দলটির উপজেলা শাখার সাবেক আমির মাও. ওলিয়ার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) উপজেলা শাখার আমির আব্দুল হক ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজেরা খাতুন এবং পৌরসভার মেয়র পদে—জামায়াতের উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাও. লুৎফর রহমানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

 

অনুরূপভাবে এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান পদে লড়তে ১১ জনের নাম ঘোষণা করেছে দলটি। তাঁরা হলেন—১ নম্বর সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউনিয়নে মাও. আলিনুর রহমান, ২ নম্বর জামাল ইউনিয়নে মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, ৩ নম্বর কোলা ইউনিয়নে মোক্তার হোসেন, ৪ নম্বর নিয়ামতপুর ইউনিয়নে মাও. মনিরুজ্জামান মিঠু, ৫ নম্বর শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে এরশাদ আলী, ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে শরিফুল ইসলাম, ৭ নম্বর রায়গ্রাম ইউনিয়নে আশরাফ আলী, ৮ নম্বর মালিয়াট ইউনিয়নে আহসান হাবিব, ৯ নম্বর বারবাজার ইউনিয়নে আরশেদ আলী পাতা, ১০ নম্বর কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নে আব্দুস সবুর মৃধা ও ১১ নম্বর রাখালগাছী ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম।

 

আগামী উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের ঘোষিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাও. ওলিয়ার রহমান বলেন, দল তাঁকে প্রার্থিতার কথা জানিয়ে আগাম ভোটের প্রস্তুতি নিতে বলেছে। এ হিসাবেই তিনি ভোটের মাঠে নেমে গণসংযোগ করছেন। ইতিমধ্যে ভোটের প্রস্তুতিতে দলের পক্ষ থেকে পোস্টার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে। তিনিসহ দলের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও দোয়া প্রার্থনা করছেন।

 

দলটির পক্ষ থেকে ভোটের আগাম প্রার্থিতার বিষয়ে জামায়াতের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির আব্দুল হক জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ নিতে ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগাম প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ পদের) প্রার্থী। দলের সিগন্যাল পেয়েই অনেকে আগাম প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন বলে জানান তিনি।

 

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক আমির মাও. আবু তালেব বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সমাজে সুশৃঙ্খল রাজনীতিতে বিশ্বাসী। নির্বাচনে এমপি প্রার্থী সিলেকশন ও সাংগঠনিক সকল কর্মকাণ্ডের সিদ্ধান্ত আসে দলের কেন্দ্রীয় পরিষদ থেকে। কিন্তু স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনে দলটির জেলা-উপজেলা কমিটি প্রার্থী চূড়ান্ত করে। এ হিসাবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেছে দলটি। তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তেই কালীগঞ্জ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেওয়ায় কর্মীরা মাঠে নেমেছেন। তবে পৌর মেয়র পদে আপাতত সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা দিলেও এটি পরিবর্তনও হতে পারে বলে যোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এ উপজেলার ন্যায় সারা দেশেও দলটি আগাম প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে।



সম্পর্কিত খবর