সিলেট

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ ও মোমবাতির দ্বিমুখী লড়াই, ফ্যাক্টর চা-শ্রমিক ভোট

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে ত্রিমুখী সমীকরণ শেষে এখন ধানের শীষ ও মোমবাতি প্রতীকের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকলেও জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই আসনের চা-শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটকে।

 

২১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৭ জন। এর মধ্যে ২২টি চা বাগানের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভোটার প্রথাগতভাবে বড় একটি ফ্যাক্টর। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল (ধানের শীষ) এবং বৃহত্তর সুন্নী ঐক্যজোটের প্রার্থী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর (মোমবাতি) সমর্থকদের মধ্যে প্রচারযুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে। শুরুতে ধানের শীষ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও শেষ মুহূর্তে মোমবাতি প্রতীক তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

 

অন্যদিকে, খেলাফত মজলিসের ড. আহমদ আব্দুল কাদেরের (দেয়াল ঘড়ি) পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা মাঠে নামায় ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ (ঘোড়া) আরও কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

 

স্থানীয় ভোটাররা উন্নয়ন ও নিরাপত্তার দাবিকে প্রধান্য দিচ্ছেন। রেমা-কালেঙ্গা যাতায়াতে সেতু নির্মাণ, সড়ক উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং চা-বাগান এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশের মতো দাবিগুলো প্রার্থীদের সামনে তুলে ধরছেন তারা। বিশেষ করে চা-শ্রমিকেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখলেও প্রার্থীরা তাদের কেন্দ্রমুখী করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।

 

নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সংখ্যালঘু ও চা-শ্রমিকদের ভোট যেদিকে বেশি পড়বে, বিজয়ের মালা তার গলাতেই উঠবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের চায়ের দোকান—সর্বত্রই এখন এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।



সম্পর্কিত খবর