রাজনীতি

আগামী অধিবেশনে উঠছে না সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব

সংসদের আগামী অধিবেশনে আসছে না সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির প্রস্তাব। এই বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে ৮টি বৈঠক করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো বিষয় চূড়ান্ত করতে পারেনি। আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন বসবে। গত ১৪ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এ অধিবেশনটি মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অধিবেশন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হবে। সংবিধানের বাধ্যবাধকতার জন্য এ অধিবেশন বসছে।

 

এ অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ দুই তিনটি বিল পাস করা হতে পারে এবং আরও দুই একটি বিল উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব এই অধিবেশনে উপস্থাপন হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বাংলানউজকে বলেন, এই অধিবেশনটি মূলত ডাকা হয়েছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাজনিত কারণে। একটি অধিবেশনের পর ৬০ দিনের মধ্যে আরেকটি ডাকতে হবে তাই। তবে দুই একটি বিল পাস হতে পারে। সেটা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। চূড়ান্ত হলে উপস্থাপন করা হবে। সংবিধান সংশোধন বিষয়ে কমিটির প্রস্তাব এ অধিবেশনে আসছে না।

 

এদিকে সংবিধান সংশোনেসর জন্য গঠিত ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ ইতোমধ্যে ৮টি বৈঠক করেছে। শনিবার ৯তম বৈঠক ডাকা হয়েছে। গত বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। তবে এই কমিটিতে বিরোধী দল নেই। বিরোধী দলের সদস্যদের কমিটিতে রাখার জন্য নাম চাওয়া হলেও বিরোধী দল নাম দেয়নি। অপেক্ষা করার পর গত ১৩ জুলাই সংসদের অধিবেশনে কমিটি গঠন করা হয়। ১২ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। বিরোধী দল এই কমিটি প্রত্যাখান করেছিল। 

 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, এখন পর্যন্ত এই কমিটি সংবিধান সংশোধনে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় চূড়ান্ত করতে পারেনি। অর্থাৎ কোন বিষয়ে সংশোধন বা কোন কোন বিষয় বাদ দেওয়া হবে সেগুলো এখনও ঠিক করা হয়। আবার কোন কোন বিষয় বা কি কি সংবিধানে নতুন যুক্ত করা হবে সে বিষয়গুলোও কমিটি এখনও চূড়ান্ত করেনি। সংশোধনের বিষয় কি কি হবে সে সব নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তি ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে বিশেষ কমিটি প্রস্তাব তৈরি করার কাজ শুরু করবে। তবে বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

 

সূত্রগুলো আরও জানায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সংবিধানের সংশোধনী প্রস্তাবে রাখার চেষ্টা করবে বিশেষ কমিটি। এর জন্য কোন কোন বিষয় আনা যায় সেগুলো সম্পর্কে বিভিন্ন দিক থেকে মতামত ও প্রস্তাব নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেবে কমিটি। এই মতামত নেওয়া ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মতামত দিতে চাইলে কমিটি তাদের মতামতও নেবে। ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে আরও সময় সময় লাগবে।

 

জাতীয় সংসদের আগামী বছরের প্রথম অধিবেশনে এই সংশোধন প্রস্তাবটি আসতে পারে বলে সূত্রগুলো জানায়। আগামী বছরের প্রথম অধিবেশন জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে শুরু হতে পারে।

 

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি প্রস্তাব তৈরি করার পর সেটি বিল আকারে সংসদের অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর বিলটি নিময় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে। স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার পর পাসের জন্য সংসদে আসবে। এই সব প্রক্রিয়া শেষ করতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে।

 

সংবিধান সংশোধন প্রস্তাবটি কবে নাগাত সংসদে আসতে পারে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বাংলানিউজকে বলেন, এখনও অনেক সময় লাগবে। আমরা আলাপ আলোচনা করছি। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করবো, অংশীজনদের মতামত নেবো। কি সংশোধন আনা হবে, প্রস্তাব কি এগুলোর বিষয়ে তাদের মতামত নিয়ে তারপর প্রস্তাব তৈরি হবে। মতামত নেওয়া হচ্ছে, এটা আরও চলতে থাকবে। প্রস্তাবটি কত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করতে পারবো সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।

 



সম্পর্কিত খবর