বান্দরবান শহরের শিশু পার্কসংলগ্ন সাইনি রিসোর্টের মালিক শৈক্য চিং মার্মার বিরুদ্ধে এক মারমা তরুণীকে টাকা ও প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বান্দরবান সদর থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট শুক্রবার টাকা ও দেখিয়ে ওই তরুণীকে সাইনি রিসোর্টে নিয়ে যান শৈক্য চিং মার্মা। পরে সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে রিসোর্টের ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে পাশের শিশু পার্কের লোকজন ও পথচারীরা সেখানে জড়ো হন। পরে বিষয়টি প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের বাসা জমজম গলির সামনে। এদিকে শৈক্য চিং মার্মা নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত শৈক্য চিং মারমার
সঙ্গে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকাবাসী জানান, রিসোর্টের নামে এ ধরনের অভিযোগ এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে রিসোর্টটির কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারক করার আহ্বান জানান তাঁরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও সুনাম অক্ষুণ্ন থাকে।
এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ জানান, শৈক্য চিং মার্মার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মামলা করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁকে তাঁর বাসা থেকে বান্দরবান সদর থানায় নিয়ে এসেছি। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, অবশ্যই আমরা তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আমরা কোনো অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেব না। ভবিষ্যতেও পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা ধর্ষণকারীর শাস্তি দাবী করেছে।