চট্টগ্রাম প্রতিদিন

খাগড়াছড়িতে জীবিতকে সরকারী সনদে "মৃত" দেখিয়ে বয়স্ক ভাতা বন্ধ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় জীবিত ব্যক্তিকে সরকারি ভাবে কাগজে কলমে ‘'মৃত'' দেখিয়ে নিজ নামীয় বয়স্ক ভাতার কার্ডটি অন্যের নামে করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো: ওসমান আলীর বিরুদ্ধে। 

 

ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধের নাম মো. রুহুল আমিন। তিনি মাটিরাঙা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের বড়বিল মুসলিমপাড়া গ্রামের স্হানীয় বাসিন্দা।

 

মৃত দেখানো ওই ভুক্তভোগী জানান, নিয়মিত ভাবে গত কয়েক বছরধরে সরকারি বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন তিনি। হঠাৎ করে ভাতা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপেক্ষা করছিলেন। ভেবেছেন হয় তো কোন সমস্যা হয়েছে। পূনরায় ভাতা চালু হবে ভেবে অপেক্ষা থেকে না আসায় কারণ জানতে সম্প্রতি মাটিরাঙা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, স্মারক নং-৪৬.০০.৪৬৭০.০৭৬.১৬.০০৬.২১, তারিখ-১১/১/২০২৬ মুলে তাকে ২০২৪ সালে মৃত দেখানো হয়েছে।

 

যার প্রেক্ষি‌তে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত ‘মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্রে ওপর ভিত্তি করে সমাজসেবা অধিদপ্তর তার বয়স্ক ভাতার কার্ডটি স্থায়ীভাবে বাতিল দিয়েছে।

 

তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান, প্রশাসনের 

দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা তথ্য যাচাই-বাছাই না করে এমন ভূল সিদ্ধান্তে কেটে দেওয়া হয়েছে বয়স্ক ভাতার কার্ডটি। খেসারত দিতে হচ্ছে অসহায় বৃদ্ধ রুহুল আমিনকে। 

 

 বৃদ্ধ ঐ ভুক্তভোগী রুহুল আমিন আরোও জানান, যখন জানতে পারি সরকারী দাফতরিক নথিপত্রে আমি অনেক আগেই মৃত তখন যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি বাজারে যাচ্ছি, সবার সাথে কথা বলছি হেঁটে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সরকারি দায়িত্বশীলরা লিখে দিলেন আমি মৃত। এই বয়স্ক ভাতা দিয়ে নিজের ঔষধ খরচ চালাতে হয়। ভৃলে সিদ্ধান্তে ভাতা তো বন্ধ হয়েছে। এখন নিজেকে জীবিত প্রমান করতে এই বৃদ্ধ বয়সে এটেবিল ওটেবিল ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। ভাতার টাকা না পাওয়ায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক বরাবরের আবেদন করেছেন তিনি।

 

মৃত‌্যু সনদ তথ্যানুযায়ী জানা যায়, তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ওসমান আলী ও চারজন ইউপি মেম্বার যথাক্রমে মো. আব্দুল মজিদ, জমিলা বেগম, মো. বেলাল হোসেন ও মর্জিনা বেগম ওই মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত  প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। 

 

যারা এই অসহায় বৃদ্ধের উপর অমানবিক কাজ করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়ে স্থানীয় এইচ এম হেলাল উদ্দিন জানান, জীবিত যে মানুষটি সকলের সামনে ঘুরছেন,দোকানে যাচ্ছে। মসজিদে নামায পড়তে যায়।সে মানুষটাকে মৃত ঘোষনা করা এক দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তারা । অদুর ভবিষ্যতে যেন কোনো মানুষকে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয় এবিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

স্হানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লাগামহীন দুর্নীতি, সরকারী বরাদ্দে অনিয়ম, ইউনিয়ন  পরিষদের প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে পেলুডার বা ভেগু দিয়ে মাটিকাটার অর্থ নিজ পকেটে ঢুকানো মত অভিযোগ রয়েছে তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো: ওসমান গনির বিরুদ্ধে। তিনি এতই প্রভাবশালী যার কাছে সাধারন মানুষ অসহায়। তার সকল কাজের অনিয়মের তদন্ত করা হলে কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে আসবে জানান ঐ এলাকার বাসিন্দারা।

 

এ বিষয়ে তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ওসমান আলী বলেন, সমাজসেবা দপ্তর থেকে

বিগত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বয়স্ক ভাতাভোগী ৩৫ জন মৃত ব্যক্তির একটি তালিকা প্রতিস্থাপন করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমি মৃত্যুর সনদ তৈরি করি। 

ইউপি সদস‌্য আব্দুল ম‌জিদ জানান,বিষয়‌টি তি‌নি অবগত নয়। তার অজা‌ন্তে সমাজ সেবা কাজ ক‌রে‌ছে। ত‌বে ইতি ম‌ধ্যে রুহুল আমিন কে বয়ষ্ক ভাতার পুন:ব‌্যাবস্থা ক‌রে দেয়া হ‌য়ে‌ছে ব‌লে জানান তি‌নি। এ ছাড়াও এলাকায় তা‌কে রুহুল আমিন না‌মে কেউ চি‌নে না।  আমিন মিয়া না‌মে প‌রি‌চিত। তাই হয়‌তো অ‌নে‌কেই চি‌নেন না ব‌লে এমন ভুল হ‌য়ে‌ছে ব‌লে জানান তি‌নি।

 

 

মা‌টিরাঙ্গা উপ‌জেলা সমাজ সেবা অ‌ফিসার আব্দুর রা‌সেদ জানান,বিষয়‌টি জেলা প্রশাসক কার্যালয় কর্তৃক তদন্তা‌ধিন র‌য়ে‌ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন বক্তব‌্য দি‌তে রা‌জি হন‌নি তি‌নি।

 

মা‌টিরাঙ্গা উপ‌জেলা কর্মকর্তা উম্মে তাহ‌মিন মিতু বলেন,ভুক্ত‌ভো‌গির আবেদ‌নের প্রেক্ষি‌তে বিষয়‌টি জেলা শ্রশাসক কর্তৃক তদন্তা‌ধিন রয়ে‌ছে। তদন্ত শে‌ষে প্রাপ্ত ত‌থ্যের ভি‌ত্তি‌তে প্রয়োজনীয় ব‌্যাবস্থা গ্রহন করা হ‌বে ব‌লে জানান তি‌নি।

 

এদি‌কে উক্ত ঘটনা‌কে কেন্দ্র ক‌রে র‌বিবার ২৮জুন তবলছ‌ড়ি‌ ইউনিয়ন স‌চিব ওসমান আলীসহ সং‌শ্লিষ্ট‌্য ঘটনার সা‌থে জ‌রিতদের বিচারের দা‌বি‌তে ‌বি‌ক্ষোভ মিছিল ক‌রে‌ছে স্থানীয়রা।



সম্পর্কিত খবর