আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আজ। ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এস এম সুলতান। বাবা মেছের আলী পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। দরিদ্র সংসারে জীবনযুদ্ধ করে বড় হয়েছেন সুলতান। বাবা-মা তাকে আদর করে ডাকতেন ‘লাল মিয়া’ নামে।
অসুস্থ হয়ে ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ এস এম সুলতানকে জন্মভূমি নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকার সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
চিত্রশিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পান একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়াউইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন।
চিত্রা নদীর পারের ‘লাল মিয়া’র রং-তুলিতে দারিদ্র্যক্লিষ্ট ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভিন্ন রকম মর্যাদা পেয়েছে। শ্রমজীবী মানুষগুলোকে তিনি এঁকেছেন পেশিবহুল করে। শক্তিশালী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে তারা।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ছবি আঁকার পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পটু ছিলেন। পুষতেন বিষধর সাপ, বেজি ও বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী।
বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুর পর তাঁর বাসভবন ঘিরে গড়ে উঠেছে সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালা, শিশুস্বর্গ, আর্ট কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালার হরেক রকম ফুলসহ প্রকৃতিঘেরা পরিবেশ সুলতানপ্রেমীদের মুগ্ধ করে সব সময়। এ ছাড়া শান্ত-স্বচ্ছ প্রকৃতিঘেরা চিত্রা নদীর পারে সুলতানের ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ তথা দ্বিতল নৌকাটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।
এস এম সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নড়াইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কোরআন খতম, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব, সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আর্টক্যাম্প ও শিশু-কিশোরদের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারকে ‘এস এম সুলতান সম্মাননা পদক’ প্রদান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এদিকে সুলতান সংগ্রহশালার উন্নয়নসহ এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করতে বিভিন্ন কাজের প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালার এই কর্মকর্তা।