এমফিল ও পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত শিক্ষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রায় দ্বিগুণ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষকদের মানসম্পন্ন গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা ও গ্রন্থ প্রকাশে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
রোববার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ‘মেথোডোলজি, রাইটিং, পাবলিকেশন অ্যান্ড কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)।
উপাচার্য বলেন, গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও সন্তোষজনক নয়। গবেষণার গুণগত মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ, সহজবোধ্য ও নির্ভুল একাডেমিক লেখালেখি এবং স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রতি মাসে অন্তত দুটি গবেষণা কর্মশালার আয়োজন করা প্রয়োজন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এমফিল ও পিএইচডি গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় গবেষণা পদ্ধতি, গবেষণাপত্র রচনা, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা এবং গবেষণার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আইকিউএসি’র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম।
কর্মশালায় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল রিসার্চ (বিআইএসআর) ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. এম খুরশেদ আলম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গবেষণায় আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মশালার উদ্যোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা প্রকাশে শিক্ষকদের উৎসাহিত করবে।