গাজীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে রবিবার শাইনপুকুর সিরামিক ও ওশিন স্পিনিং মিলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। সমস্যা নিরসনে শিল্প পুলিশ ও কলকারখানা অধিদপ্তরের উপস্থিতিতে কারখানা দুটির শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে শ্রমিকরা কর্মসূচি স্থগিত করে।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন হ্রাস এবং আর্থিক সংকটের কারণে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর সিরামিক লিমিটেডের শ্রমিকদের গত আগস্ট মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বকেয়া বেতনের দাবিতে সকাল ১০টার দিকে আড়াই শতাধিক শ্রমিক কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি পালন করে। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। তারা কারখানার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করে।
একপর্যায়ে শ্রমিকদের তোপের মুখে তিনি ও জুনিয়র এক্সিকিউটিভ হারুনুর রশিদ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে শ্রমিকরা তাদের ধাওয়া করে ধরে মারধর করে। এতে ওই দুই কর্মকর্তা আহত হন। দুপুরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শিল্প পুলিশের প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ, কয়েকজন কর্মকর্তার পদত্যাগ, ৮ তারিখের মধ্যে মাসিক বেতন পরিশোধ, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ, ১০ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি, এক বছর চাকরি পূর্ণ হলে স্থায়ীকরণ, এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানা দাবিও উত্থাপন করেন।
কারখানাটিতে প্রায় ২ হাজার ২০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে একই দিনে শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকার ওশিন স্পিনিং মিলের ৬ শতাধিক শ্রমিক গত আগস্ট মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেন। দুপুরে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কর্তৃপক্ষ ২৮ সেপ্টেম্বর কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং আগস্ট মাসের বকেয়া বেতন আগামী ১ অক্টোবর পরিশোধের সিদ্ধান্ত জানায়। শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, বৈঠকে শাইনপুকুর সিরামিক কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সকল দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে রাত পৌনে ৯টায় শ্রমিকরা কারখানা ত্যাগ করে। সোমবার সকাল থেকে যথারীতি উৎপাদন চলবে। একইভাবে ওশিন স্পিনিংয়ের শ্রমিকরাও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।