প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনসেবার অঙ্গীকারকে পুঁজি করে রাজনীতিতে নামার পরই বাজিমাত করেছেন জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক সচিব আব্দুল বারী। মন্ত্রিসভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর স্থান পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জেলায় বইছে আনন্দের বন্যা।
স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো জয়পুরহাট জেলা থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন—এমন খবরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস ও গর্বের অনুভূতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি জেলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকায় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ডিসি বারী’ নামেই পরিচিত।
কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বলিশিব সমুদ্র গ্রামে জন্ম নেওয়া আব্দুল বারী কর্মজীবনে ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সচিব হিসেবে অবসরের পর গত এক বছরে তিনি এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
বিএনপি নেতা খুরশিদ আলম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনে থাকাকালীন তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন। তাঁর সততা ও দক্ষতার কারণেই মানুষ তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে।
ক্ষেতলাল পৌর বিএনপির সভাপতি প্রভাষক আব্দুল আলিম জানান, মাঠ প্রশাসন থেকে সচিবালয় পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা জয়পুরহাট-২ আসনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান বলেন, তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে শুধু জয়পুরহাট নয়, দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জেলার প্রথম মন্ত্রী হিসেবে আব্দুল বারী উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন।