আইন-আদালত

অনলাইন জিডির আড়ালে চলছে অবৈধ লেনদেন

নাগরিক সেবাকে সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে গত বছরের ৬ জানুয়ারি ঝিনাইদহের ছয়টি থানায় চালু হওয়া অনলাইন জিডি বা সাধারণ ডায়েরির ব্যবস্থা এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনলাইন জিডির আড়ালে গড়ে উঠেছে একটি অবৈধ লেনদেন চক্র। কতিপয় দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী অনলাইনে জিডি করে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে নিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ভুক্তভোগীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে অনলাইন সেবার স্বচ্ছতা নিয়েও তৈরি হচ্ছে শঙ্কা। 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, থানায় না গিয়েই ঘরে বসে অনলাইন জিডি করার সুযোগ থাকলেও অনেকেই যথাযথ পদ্ধতি না জানার কারণে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সহজে অনলাইন জিডি করে দেওয়া হবে এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব দালালচক্র সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তারা বিনা খরচের সরকারি সেবার জন্য ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। টাকা আদায়ের জন্য ব্যবহার করছে মোবাইল ব্যাংকিং এর বিভিন্ন অ্যাপস।  সূত্র জানায়, কিছু ক্ষেত্রে জিডির তথ্য পরিবর্তন, ভুয়া জিডি তৈরি কিংবা জিডি নম্বর জালিয়াতির ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে থানার আশপাশের অবস্থিত কম্পিউটারের দোকানগুলোর সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতারক চক্র এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় ভুক্তভোগীদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করে নেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে অধিকাংশ ভুক্তভোগীদের।

 

অনলাইন জিডির নামে অবৈধ লেনদেন রাষ্ট্রীয় ডিজিটাল সেবার বিশ্বাসযোগ্যতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল হোসেন বলেন, ‘আমার জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গিয়েছিল। থানায় যাওয়ার পর এক কর্মকর্তা অনলাইন জিডি করতে বললেন। আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে ফেসবুকে একটি পেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করি। পরে বিকাশে ১ হাজার ২০০ টাকা পাঠানোর পর তারা আমাকে একটি জিডির কপি পাঠায়। পরে জানতে পারি, এই জিডি আমি নিজেই বিনা খরচে করতে পারতাম। আমার সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

  

ঝিনাইদহের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকারিয়া মিলন বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের জন্য অনলাইন জিডি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এ ধরনের কার্যক্রমে অবৈধ লেনদেনের ছায়া পড়লে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। অনলাইন সেবা সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের প্রতারকচক্র আরো সক্রিয় হবে। পাশাপাশি অনলাইন জিডি পোর্টালে নিরাপত্তা জোরদার ও সন্দেহজনক লেনদেন নজরদারির আওতায় আনতে হবে। নইলে সাধারণ মানুষ আইনি জটিলতায় পড়বে। এজন্য সংশ্লিষ্টরা এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা হারানোর আশঙ্কা থেকে যাবে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘অনলাইন জিডি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের সেবা। এর জন্য কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। কেউ যদি টাকা নিয়ে জিডি করে দেওয়ার কথা বলে, তাহলে সেটি অবৈধ। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আশা করছি শিগগিরই প্রতারক চক্রদের আইনের আওতায় অঅনতে পারবো।’

 



সম্পর্কিত খবর