শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য রোববার দুপুর ১২টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিটির প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছেন। আগামীকাল সোমবার (২ ডিসেম্বর) শ্বেতপত্রের বিস্তারিত গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
রাজধানীর তেজগাঁও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাসসকে জানান, শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।
তিনি বলেন, শ্বেতপত্রের প্রতিবেদনে অর্থনীতির প্রতিটি খাত ধরে ধরে আলাদা বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে উন্নয়নের গল্প সাজাতে কিভাবে পরিসংখ্যানকে ম্যান্যুপুলেট করা হয়েছে। উন্নয়নের গল্প শোনানো হলেও ভেতরে ভেতরে চলেছে লুটতরাজের এক মহাযজ্ঞ।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য একটা ঐতিহাসিক দলিল। আর্থিকখাতে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা ছিল একটা আতঙ্কের বিষয়। আমাদের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে কিন্তু কেউ এটা নিয়ে কথা বলেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত ২৯ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুমোদনক্রমে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাংলাদেশের এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্ববায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অনারারি ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে শ্বেতপত্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তীতে দেশের ১১ জন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞকে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
শ্বেতপত্রে মোট ছয়টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অন্যান্য বিষয়গুলো হলো-অভ্যন্তরীণ সম্পদ, সরকারি খরচ (সরকারি বিনিয়োগ, এডিপি, ভর্তুকি এবং ঋণ) এবং বাজেটের ঘাটতি নিরসন।
এছাড়াও মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন, সরকারি ক্রয় এবং খাদ্য বিতরণ বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৈদেশিক ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে- যার মধ্যে রপ্তানি, আমদানি, প্রেরিত অর্থ, বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিদেশি ঋণ এবং ঋণের প্রভাবের মতো বিষয় রয়েছে।
একই সঙ্গে শ্বেতপত্রে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শক্তি, ব্যাংকিং, কর আদায়, মানি লন্ডারিং, বড় প্রকল্প, দারিদ্র্য এবং বৈষম্য সম্পর্কিত বিষয়গুলোরও পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।