রাজশাহী

কাদার ভেতর স্বপ্নের খোঁজ কুচিয়া ধরেই ঘুরছে সংসারের চাকা

ভোরের আলো ফোটার আগেই খাল-বিলের ধারে জড়ো হন তারা। কচুরিপানায় ঢেকে থাকা জলাবদ্ধ জমি, রাস্তার পাশের নিচু জায়গা কিংবা নদী-নালার কাদামাটিই তাদের কর্মক্ষেত্র। হাতে কোদাল। প্রথমে মাটি গর্ত করে খুঁড়ে নেওয়া হয় সম্ভাব্য জায়গা, এরপর কাদার গভীরে হাত ঢুকিয়ে ধরা হয় কুচিয়া। এই কষ্টসাধ্য পরিশ্রমই এখন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নওটিকা, নওপাড়া, ভূতপাড়া ও কর্ণপাড়া গ্রামের কয়েকটি পরিবারের প্রধান জীবিকা।

বিশু চন্দ্র বর্মন ও রিপন চন্দ্র বর্মনের নেতৃত্বে কয়েকজনের একটি দল নিয়মিত কুচিয়া ধরেন। প্রতিদিনের সংগ্রহ স্থানীয় আড়তে বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে। বাজারদর ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে মাসে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয় তাদের।

নওটিকা গ্রামের বিশু চন্দ্র বর্মন বলেন, “কৃষি আমাদের মুল পেশা হলেও কুচিয়া ধরা এখন আমাদের মূল পেশা। কুচিয়ার আয়ে সংসার মোটামুটি ভালোই চলে।”

 

রিপন চন্দ্র বর্মন জানান, কাজটি ঝুঁকিপূর্ণও বটে। আগে আমরা নিজেরা খাওয়ার জন্য কুচিয়া ধরতাম  এখন পেশা হিসাবে নিয়েছি। বাজার ভালো থাকায় আমরা এ পেশায় টিকে আছি।”

 

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, কুচিয়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। ফলে এর চাহিদা স্থিতিশীল। আগে যে জলাবদ্ধ জমি অবহেলায় পড়ে থাকত, এখন তা জীবিকার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

 

নওপাড়া, ভূতপাড়া ও কর্ণপাড়া গ্রামের আরও কয়েকজন জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি  কুচিয়াই এখন তাদের আয়ের প্রধান উৎস। এতে গড়ে উঠেছে ছোট পরিসরের একটি বাণিজ্যিক চক্র। সংগ্রহকারী, পাইকার ও পরিবহনকারীদের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে এসেছে নতুন গতি।

 

জানা যায়, বিভিন্ন এনজিও প্রশিক্ষণ দিয়ে বানিজ্যিক ভাবে কুচিয়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছেন। এতে আয় বাড়ছে, কমছে ঝুঁকি। 



সম্পর্কিত খবর