গর্ভবতী মায়ের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে ডিমের বিকল্প নেই। শরীরের সেই ঘাটতি একমাত্র ডিমের মাধ্যমেই পূরণ হয় বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি আরও বলেন, ডিমের সরবরাহ যেন সহজলভ্য হয়, সে বিষয়ে খামারিদের আহ্বান জানান তিনি। ডিমের কোনো বিকল্প নাই। আমরা সব সময় মাছ-মাংস খেতে পারি না; মূলত সে কারণেই ডিম আমাদের চাহিদা পূরণ করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৫ কোটি ডিম রপ্তানি করার চেষ্টা করছি। বর্তমানে পঞ্চগড়ে ২৭ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যেখানে জেলার চাহিদা রয়েছে ২৬ কোটি ডিম। ডিম উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে। খামারিরা যেন তাদের খামার ধরে রাখতে পারেন, সেজন্য তাদের লোন বা ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আমরা নদীর পাশে হাঁসের খামার গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, কারণ নদীর সঙ্গে হাঁসের ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে।
"ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি"—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে পঞ্চগড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৮ অক্টোবর শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ।
পঞ্চগড় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. নুরুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, পুলিশ সুপার আবু সায়েম, পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, জেলা ট্রেনিং অফিসার (ডিওটি) ডা. আব্দুস সোবহান, জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. আব্দুল কাদের এবং জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. শহিদুল ইসলাম।
শোভাযাত্রায় জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।