দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ১০১৩ কোটি টাকা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূলত প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাকে এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বেনাপোল কাস্টমসের জন্য ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। তবে এ সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরে লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৬০০ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক।
কাস্টমস ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্কে স্থবিরতা আসায় পণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত অর্থবছরে মোট আমদানি ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন থাকলেও, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তা মাত্র ১০ লাখ ১৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। যেখানে আগে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ ট্রাক পণ্য আসত, বর্তমানে তা ২৫০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন অভিযোগ করে বলেন, "কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা পণ্যের অতিমূল্যায়ন করছেন, যা আমদানিকারকদের জন্য বাড়তি চাপ। ফলে ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দর বেছে নিচ্ছেন।" অন্যদিকে, আমদানিকারক হাবিবুর রহমান জানান, বাণিজ্যিক নিরাপত্তা দুর্বল হওয়ায় এবং কিছু পণ্যে আমদানি নিষেধাজ্ঞা থাকায় শুল্ক ফাঁকির ঘটনা বাড়ছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, আমদানি কমার প্রভাব শ্রমিক ও পরিবহন খাতের ওপরও পড়েছে। গত তিন দিনে মাত্র ৭৮৩ ট্রাক পণ্য ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করেছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, "শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ ও পণ্য খালাস দ্রুত করতে আমরা কাজ করছি। শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমস আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, অর্থবছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ে গতি ফিরবে।"