পঞ্চগড়ে চার লেন সড়কের ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্যাঁতস্যাঁতে ও পানিযুক্ত স্থানে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নিম্নমানের ইট ও খোয়া ড্রেনে ফেলার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু ইট সরিয়ে নেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালেও পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে ট্রাক থেকে নিম্নমানের খোয়া ড্রেনের ভেতরে ফেলা হয়। এর আগে গত বুধবার বিকেলেও পঞ্চগড় পৌরসভার ডোকরোপাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ড্রেন নির্মাণের কাজটি করছে পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সড়ক বিভাগের লোকজনের সামনেই নিম্নমানের ইট ও খোয়া ফেলা হলেও তারা কোনো বাধা দেননি।
পঞ্চগড় চৌরঙ্গী মোড় থেকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ইটের অনেকগুলো এতটাই নিম্নমানের যে, সেগুলো সাধারণত বসতবাড়ির নির্মাণকাজেও ব্যবহার করা হয় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্মাণকাজে থাকা নিম্নমানের ইটগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শহরের সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পঞ্চগড় শহরের প্রধান সড়কের পাশে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ড্রেন নির্মাণের কাজের গুণগত মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন নাগরিক হাসানুজ্জামান পলাশ বলেন, "চার লেন সড়কের পাশে এ ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়ার মতো নয়। দিনেদুপুরে কীভাবে এমন অনিয়ম করা হচ্ছে, সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন। আমরা চাই ড্রেনের কাজ মানসম্মত হোক এবং কেউ যেন অনিয়ম করার সুযোগ না পায়।"
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, "এখানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর প্রশস্ততা ও উচ্চতা কত হবে, তা নিয়েও বিভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কীভাবে হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
চার লেন সড়কের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের কার্যসহকারী মোজাফফর হোসেন বলেন, "দুপুরে আমরা খাবার খেতে যাওয়ার সুযোগে তারা নিম্নমানের ইট ফেলেছে। পরে ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে; কারণ ইটগুলো নিম্নমানের ছিল।"
পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন বলেন, "ঘটনার পর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কাজে কিছুটা ত্রুটি থাকায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।"
প্রকাশ্যে ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট কীভাবে ব্যবহার করা হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এখানে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভালোভাবে কাজ করার জন্য বলছি। কাজগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।"
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই এবং প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য (স্পেসিফিকেশন) অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।