জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত মঙ্গলবার (৯ জুন) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের দিনই তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডিস্থ নগর কার্যালয়ে যোগদান করেন। এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ নবনিযুক্ত প্রো-ভিসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আযম, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলাদেশের শিক্ষা গবেষণা ও শিক্ষক উন্নয়ন ক্ষেত্রে সুপরিচিত একজন শিক্ষাবিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
সম্প্রতি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনেস্কো চেয়ার হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেছেন, যা দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র মানসম্পন্ন শিক্ষা (এসডিজি-৪), শিক্ষক পেশাদারিত্ব উন্নয়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উৎকর্ষ। তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জাতীয় কারিকুলাম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বে অধ্যাপক জিন্নাহর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। আইডিআরসি, কানাডা এবং জিপিই কিক্সের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ, ভূটান, নেপাল, ভিয়েতনাম ও তিমুর-লেস্তে অংশগ্রহণকারী পাঁচ বছর মেয়াদি ‘জেন্ডার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ পেডাগোজি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক গবেষণা কর্মসূচিতে তিনি সমন্বয়কারী ও পরবর্তীতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, ব্রিটিশ কাউন্সিল, জাইকা (জাইকা), সেভ দ্য চিলড্রেন এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি। শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও উন্নয়নে পরামর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষা গবেষণা, শিক্ষক উন্নয়ন ও শিক্ষাক্রম সংস্কারে তাঁর অভিজ্ঞতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।