ঢাকা

পূর্ব বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত গুরুতর আহত ২, অভিযুক্তের বাড়িতে জনতার আগুন

নরসিংদীর পলাশে পূর্ব শত্রুতার জেরে আশিক ভূঁইয়া (২০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ সাগর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে উপজেলার মাঝেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আশিক ভূঁইয়া মাঝেরচর গ্রামের মনির হোসেন ভূঁইয়ার একমাত্র ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন পরই তার প্রবাসে যাওয়ার কথা ছিল।

আহতরা হলেন একই এলাকার বকুল ভূঁইয়ার ছেলে রুহুল আমিন (২০) ও মন্নান ফকিরের ছেলে ইলিয়াস। গুরুতর আহত রুহুল আমিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইলিয়াস প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী রোমান ভূঁইয়া জানান, পারুলিয়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সাগর (২২) ও তার ছোট ভাই সোহাগের সঙ্গে প্রতিবেশী রুহুল আমিনের মাদকসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশিকের সঙ্গে সাগরের কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে সালিশের সময় নির্ধারণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, সালিশের বিচারকদের জন্য অপেক্ষার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর, সোহাগ, তাদের বাবা ইউনুস আলীসহ ১০-১৫ জন অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় সাগর হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আশিককে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। আশিককে বাঁচাতে গেলে রুহুল আমিন ও ইলিয়াসও আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিক ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। রুহুল আমিনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে আশিকের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। শনিবার সকালে আশিকের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে পলাশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”



সম্পর্কিত খবর