খুলনা

পূর্বপরিকল্পিত ‘কিলিং মিশনে’ অধ্যাপক মসলেম মন্ডলকে হত্যা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কমলাপুর ডাক্তারপাড়া এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) সংযুক্ত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) অধ্যাপক মসলেম মন্ডল (৫৪)-কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিত এই হামলায় তাঁর নিকট আত্মীয়-স্বজনদের একটি পক্ষ জড়িত ছিল।

নিহত মসলেম মন্ডল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ডাক্তারপাড়া এলাকার মৃত আবেশ মন্ডলের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কোটি টাকার জমিজমা ও সম্পত্তি নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগেও তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং সে ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, পূর্বের বিরোধের ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষ তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত বুধবার মাগরিবের পর থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বিরোধপূর্ণ জমির ওপর অবস্থিত একটি আমবাগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মসলেম মন্ডলকে তাঁর বাড়ির গেট থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি বাড়ির সামনে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা একদল ব্যক্তি রড, হাতুড়ি, ধারালো অস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর নৃশংস হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলায় তাঁর হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা তাঁকে নির্মমভাবে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাকারীদের মধ্যে মামুন, জহুরুল, আশরাফুল, উজ্জ্বল, মাহবুব, সোহেল, স্মৃতি, উম্মী, ওয়াহেদা ও মরিয়মসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ সরাসরি হামলায় অংশ নেন, আবার কেউ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাইয়ের মেয়ে মোছা. বুলু খাতুন বলেন, “জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগেও আমার চাচার ওপর হামলা হয়েছিল এবং সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। একই বিরোধের জেরে এবার তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মসলেম মন্ডল কয়েকজন হামলাকারীর নামও উল্লেখ করেছিলেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “ঘটনার দিন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মসলেম মন্ডলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় এজাহার জমা পড়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মসলেম মন্ডলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তদের অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। 



সম্পর্কিত খবর