ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২৪ বছর পর নতুন অধ্যায় রচনা করল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে ফোলারিন বালোগুনের গোল, অন্যদিকে তার লাল কার্ড; রোমাঞ্চ ভরা ম্যাচে ১০ জন নিয়েও দারুণ লড়াই করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়েছে মার্কিনরা। ম্যাচের প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) ফোলারিন বালোগুনের গোলে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ম্যাচের ৬৪ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা, যখন গোলদাতা বালোগুন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। পরে মালিক টিলম্যানের ফ্রি-কিকে জয় নিশ্চিত হয়।
সানফ্রানসিসকোর বে অ্যারিয়া স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়েছে দলটি। ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষ বসনিয়া ম্যাচজুড়ে ছিল অনেকটাই রক্ষণাত্মক, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল মার্কিনরা। আগামী সোমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সিয়াটলে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই ম্যাচে বালোগুনকে পাবে না তারা। অন্যদিকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো বসনিয়ার।
ম্যাচের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলেছিল বসনিয়া। কিক-অফের পরপরই লম্বা বলে আক্রমণে উঠে কর্নার আদায় করে তারা, যদিও সেখান থেকে বিপদ তৈরি হয়নি। ১১তম মিনিটে এদিন জেকোর পাস থেকে শট নেন এরমেদিন দেমিরোভিচ, কিন্তু তা সরাসরি গিয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের হাতে। এক মিনিট পর আরও বড় বিপদের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। কেরিম আলাজবেগোভিচের বাঁকানো ইনসুইঙ্গার বুঝতে ভুল করেন ফ্রিস। গোললাইন থেকে কোনোমতে বল সরিয়ে জাল অক্ষত রাখেন তিনি।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ প্রাণবন্ত ছিল তাদের। সপ্তম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান পুলিসিচ জায়গা পেয়ে শট নিলেও বসনিয়ার রক্ষণ সেটি প্রতিহত করে। ১৫তম মিনিটে আন্তোনি রবিনসনের ক্রস থেকে সুযোগ পান বালোগুন, তবে তার শট ছিল দুর্বল। ১৮তম মিনিটে আবারও ডান দিক দিয়ে আক্রমণ সাজায় যুক্তরাষ্ট্র। অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের পাস ধরে এগিয়ে যান ওয়েস্টন ম্যাকেনি। তার ক্রস ঠেকাতে গিয়ে বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি বসনিয়া গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলি। ফিরতি বল রবিনসনের মাথায় লাগলেও তা চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ওই আক্রমণের পর কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিতে হয় ভাসিলিকে।
হাইড্রেশন ব্রেকের আগে-পরে বলের দখলে আরও স্পষ্ট আধিপত্য তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র। ২৯তম মিনিটে তাদের বল দখল ছিল ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি। তবে বসনিয়ার রক্ষণ তখনও জমাট ছিল। ৩৩তম মিনিটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন বালোগুন। টিলম্যানের প্রেসিং থেকে বল পেয়ে ম্যাকেনি দ্রুত পাস দেন বালোগুনকে। ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ ফিনিশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ফরোয়ার্ড, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ৬ মিনিট পর আরেকটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করে যুক্তরাষ্ট্র। টিলম্যানের ব্যাকহিল পেয়ে বক্সে ঢোকেন পুলিসিচ। তার নিচু ক্রস গোলমুখে এলেও বালোগুন ঠিক সময়ে দৌড় না দেওয়ায় বল চলে যায় বিপদসীমা পেরিয়ে। ৪৪তম মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় যুক্তরাষ্ট্র। আবারও আক্রমণের কেন্দ্রে টিলম্যান। আলগা বল ধরে তিনি পাস বাড়ান বালোগুনের দিকে। মুহারেমোভিচ বল নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে সুযোগ পেয়ে যান বালোগুন। এবার আর ভুল করেননি তিনি; ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে এগিয়ে দেন স্বাগতিকদের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাকেনির দারুণ লফটেড পাস থেকে সের্জিনিও ডেস্ট বল বাড়ান বালোগুনের দিকে। কিন্তু কাছ থেকে কার্যকর টাচ নিতে পারেননি তিনি, বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। অগোছালো শেষের পরও বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।