বরগুনার বামনা গোলচত্বর থেকে রুহিতা পোটকাখালী এলজিইডির রাস্তাটির সংস্কারকাজ শেষে জনমনে বইছে স্বস্তির হাওয়া। দীর্ঘদিন যাবৎ এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির ছিল বেহাল দশা; ধুলোবালি ও খানাখন্দে পরিপূর্ণ থাকায় জনদুর্ভোগ ছিল চরম পর্যায়ে। প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির সংস্কারের সম্ভাবনা বিভিন্ন সময়ে দেখা দিলেও আগে তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে জনমনে এ নিয়ে ছিল তীব্র হতাশা ও চাপা ক্ষোভ।
রাস্তাটি এ যাবৎ মানুষের চলাচলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ও উপজেলার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে বরগুনা জেলা শহরে যাতায়াত করেন। এলাকার শত শত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক ও পথচারীরা শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়, আসমাতুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি সারওয়ারজান পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম ফয়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সদর আর রশিদ ফাজিল মাদ্রাসা, সরকারি ডিগ্রি কলেজ, আইএ একাডেমি ও বামনা উপজেলা পরিষদে এই পথেই যাতায়াত করেন। ফলে রাস্তাটির সংস্কার জনমানুষের সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছিল।
অবশেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সংস্কারকাজটি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. নিকহাত আরা বলেন, "অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় জনদুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।" এ জন্য তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আকন ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ আকন রানা বলেন, "দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পরেও বামনার মানুষের কথা ভেবে দ্রুততম সময়ে কাজটি শেষ করতে পেরে সংশ্লিষ্টদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।" উপজেলা প্রকৌশলীও সংস্কারকাজের প্রশংসা করেন।
উপজেলা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, রাস্তাটিতে পূর্বে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে, বর্তমানে সংস্কার হওয়ায় এটি আধুনিক রূপ পেয়েছে। কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. রিয়াদুল কাদের আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অত্যন্ত সুন্দর ও টেকসইভাবে রাস্তাটির মেরামতকাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উপজেলার আরও কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।