মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি কমে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুটির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
খবর রয়টার্স
বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৮ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে আসে। গত ২৩ মার্চের পর এটি সর্বনিম্ন দাম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট ডেলিভারির সোনার ফিউচারসের দামও ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৯ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এফএক্সটিএমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক লুকম্যান ওতুনুগা বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির কারণে সোনার বাজার চাপে রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা জর্দান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এ ধরনের সংঘর্ষের এটি অন্যতম বড় ঘটনা।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার পর থেকে সোনার দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে।
এদিকে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা বর্তমানে ৭০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন।
এসব তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে সোনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়ে ১ হাজার ২২৭ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।
দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।